রুহের বসন্ত

রুহের বসন্ত

ইত্তিহাদ পাবলিকেশন

রমজানে ইবাদতের পাশাপাশি কিছু মানবিক কাজও বৃদ্ধি করতে পারি। কীভাবে? চলুন মাশওয়ারা করি।
মনে করুন, আপনি একজন সন্তানের পিতা বা মাতা। আপনার সন্তানের পাঠদানের জন্য একজন গৃহশিক্ষক রেখেছেন। হেকমতের সঙ্গে তার আর্থিক অবস্থার খোঁজ নিন। যদি সে ব্যাচেলর হয়, তাহলে চেষ্টা করুন পুরো রমজানে তাকে ইফতার করানো। আর যদি পরিবার নিয়ে থাকে, তাহলে পুরো পরিবারের জন্য কিছু করার ফিকির করুন।
মনে করুন, আপনার একটি মুদি দোকান আছে। দৈনিক অনেক গ্রাহক আপনার থেকে সদাই নেয়। প্রত্যেক পণ্যে আপনি লাভ করেন। ব্যবসায়ে লভ্যাংশ নেওয়া দোষের কিছু নয়। কিন্তু আপনি মোটামুটি জানেন, আপনার কোন ক্রেতা কোন ও কেমন অবস্থায় আছে। কেউ হয়তো এমনও থাকতে পারে, যে বাসাবাড়িতে কাজ করে, রিকশা চালিয়ে কষ্ট করে সংসার চালায়। এ রমজানে আপনি তার থেকে লাভের অংশটি আল্লাহর জন্য বাদ দিয়ে দিন। তাকে জানিয়ে দিন, এটা তার জন্য রমজানের উপহার।
মনে করুন, আপনি একজন যাত্রী। লোকাল বাসে নিয়মিত যাতায়াত করেন। এদিক-সেদিক থামিয়ে দীর্ঘ সময় নিয়ে যাত্রী উঠানো এদের জন্য খুব সহজ ব্যাপার৷ আপনি রমজানের খাতিরে এমন কোনো সিন ক্রিয়েট করবেন না, যাতে অন্যরাও গালাগালির সুযোগ পায়। কারণ রমজানের পবিত্রতা রক্ষার গুরুত্ব আপনি তাদের চেয়ে একটু বেশি জানেন, তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা আপনার কর্তব্য।
মনে করুন, আপনি সাবলেট থাকেন। এক ফ্ল্যাটে দুই পরিবার বাস করা এখন স্বাভাবিক বিষয়। এক্ষেত্রে মা-বোনদের উচিত সময়কে ভাগ করে দুজন সম্মিলিতভাবে ইফতার ও রান্নার আয়োজন সম্পন্ন করা। দৈনিক চেষ্টা করুন যা তাদের আয়োজনে নেই; কিন্তু আপনি করেছেন—সেটা তাদের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া। এতে আত্মিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। কারণ মনে রাখা উচিত, ইসলামে প্রতিবেশীর হক অনেক বেশি। পাশাপাশি আপনার আত্মীয়স্বজনের পূর্বে প্রতিবেশীই বিপদের সময় আপনার বেশি কাজে আসে।
এরকম ছোট-ছোট বিষয়গুলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অভ্যাসে পরিণত করুন। দেখবেন, আপনার এই সুন্দর শিষ্টাচারের প্রভাব পুরো জীবনে বদলে দিচ্ছে। রমজান আল্লাহর জন্য। এ রমজান হোক আমাদের রুহের বসন্ত।