আপনার কারণে আপনার স্বামীর জান্নাতে যাওয়ার পথ কঠিন হচ্ছে না তো?

আপনার কারণে আপনার স্বামীর জান্নাতে যাওয়ার পথ কঠিন হচ্ছে না তো?

সাদিক ফারহান
আপনার কারণে আপনার স্বামীর জান্নাতে যাওয়ার পথ কঠিন হচ্ছে না তো? ভেবে দেখেছেন? স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের লোকদের কারণে পুরুষের জান্নাতের পথ জটিল হয়ে যায়। সে যতটা এগিয়ে যেতে চায়, পরিবার তাকে পিছিয়ে দেয়। নিত্যপ্রয়োজনের বাইরেও যদি পরিবারের উচ্চাশা থাকে, সেটা পূরণ করতে পুরুষের এক্সট্রা প্রেশার নিতে হয়। উটকো আয়ের চিন্তা করতে হয়। কখনো হারামের দিকেও যেতে হয়।
মনে রাখবেন টাকা একজন পুরুষের সম্মানের ব্যাপার। এ নিয়ে পেরেশানি থাকলে, প্রেশার ও প্ররোচনা থাকলে সে অপমান বোধ করে। কুলিয়ে না পারলে সহজ সোর্স খোঁজে। অন্যায় করে। পরিবার অল্পেতুষ্ট না হলে বেশিরভাগ পুরুষই সুদ-ঘুষ প্রতারণার দিকে এগিয়ে যায়। যেতে বাধ্য হয়। কারণ সে মনে করে আমি পরিবার টানতে পারছি না, যা তার জন্য অপমানজনক। অথচ বাস্তবতা হলো, তার স্ত্রী-সন্তানের চাহিদা বেশি, উচ্চাশা দুঃখজনক পর্যায়ের। ফলে তার পক্ষে হালালে সন্তুষ্ট থাকা সম্ভব হয়নি।
এই যে পুরুষকে স্লাইডলি অন্যায়ের দিকে প্ররোচিত করা, এর দায় ও দাগ কিন্তু পরিবারেরও আছে। গুনাহের ভাগ এবং শাস্তির বাটোয়ারায়, পরিবারও থাকবে। অন্যায় কেবল নিজে করা না, অন্যায় সম্প্রসারণ হতে পারে। ব্যক্তি কাউকে অন্যায়ের দিকে প্ররোচিত করতে পারে। পরিবারের চাপে যদি কোনো স্বামী গুনাহে লিপ্ত হয়, হারাম খায়, অন্যায় করে, তাহলে ধীরেধীরে সে তাতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। লোভে পড়ে যায় এবং এই মরজ সমাজে বিস্তার করে। সন্তানও বাবার কাছ থেকে সেটা শেখে। মেয়ে শেখে, কীভাবে পুরুষকে সাইজ করতে হয়, চাপে রাখতে হয়। যা পরবর্তীতে তার সংসার অশান্ত করতে পারে।
তাই আপনার পুরুষকে ফুরসত দিন। তার কাঁধের বোঝা কমান। নিজের একটা লাইফ স্ট্যান্ডার্ড দাঁড় করান। যা নিত্যপ্রয়োজনীয় বিষয়ে সীমাবদ্ধ, স্বামীর পক্ষে স্বাভাবিকভাবে পূরণীয় এবং মুমিনা নারীসুলভ। সেটুকু পূরণ হলেই বলুন, ওকে, আপনি প্রেশার নেবেন না। এই টাকাতেই বাসা ভালোভাবে চলবে। কেবল যদি ‘নাই নাই’ বলেন, ‘অমুক এই কিনলো সেই করল’ বলে প্রেশার দেন, তাহলে বেচারা পুরুষের জীবন জটিল হয়ে যাবে। সে স্পষ্ট হালালের পথ ছেড়ে অস্পষ্ট অন্যায়ের দিকে, কিংবা স্পষ্ট হারামের পথে এগিয়ে যাবে। যার দায় আপনি এড়াতে পারবেন না। সুতরাং, তার প্রতি রহম করুন।
তাকে একটু ইবাদতেরও সুযোগ দিন। আপনাদের সঙ্গে নিয়ে দাম্পত্য যাপনের অবসর দিন। সন্তানের সাথে হাসিখেলা করার ছুটি দিন। আমি এক ভাইকে চিনি, বছরে চার মাস বিজনেস করে তিনি পরিবারের সারাবছরের খরচ তাদের হাতে তুলে দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় চলে যান। বাকি মাসগুলো আমলে-ইবাদতে কাটান। তার পরিবার বলে, আলহামদুলিল্লাহ এটুকুতেই আমাদের চলে যায়। কিন্তু আমরা কি কখনো ঘরের মানুষটাকে এমন বলেছি? নাকি বলি, এটা করলে এত টাকা আসত, বসে না থেকে ওটা করলে এত আসত। এভাবে তার জীবন থেকে ইবাদতের সুযোগটুকু কেড়ে নিই। তাকে আল্লাহর দরবার থেকে দুনিয়ার দুয়ারে ঠেলে দিই। আপনার উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রভাব কতদূর যেতে পারে, ভেবেছেন কখনো?
সুতরাং পুরুষকে বুঝুন। সে একজনের বান্দা, তাকে সেই মনিবের দরবারে বেশি বেশি হাজিরা দেয়ার সুযোগ দিন। ধনাঢ্য মহিলাদের সাথে উঠাবসা কমান। নিজের চেয়েও হতদরিদ্র যারা, তাদের দিকে তাকান। অনলাইন হাজারো নারীর এলিট জীবনযাপন দেখে স্বামীর উপর উটকো বোঝা চাপিয়ে দেবেন না। যা সহজে হালালে হাতে আসে, তাতে সন্তুষ্ট থাকুন। তাহলে স্বামী যে ইবাদতের সুযোগ পাবে, আপনিও তার সওয়াব পাবেন।
এক সাহাবি জিহাদে গেলে অন্যরা নবিজিকে বললেন, আল্লাহর রাসুল! সে তো জান্নাত কামিয়ে নিচ্ছে। নবিজি বললেন, তোমরা কী করছ? তারা বললেন, আমরা তার বাড়িঘর জমিজমা পাহারা দিচ্ছি। নবিজি বলেন, তার সমান বা বেশি সওয়াব তোমরাও পাচ্ছ। তোমরা যদি দায়িত্ব না নিতে, সে কি যেতে পারত, বলো?